দিন প্রতিদিন বিশেষ

 

বিহার প্রথম পর্ব নির্বাচন বিশেষ 

    ।। প্রথম রাউন্ডের লড়াই আপাতত শেষ: বিহার নির্বাচন ।।





  কাজল ভট্টাচার্য ,   কলকাতা, অক্টোবর ২৮:

 পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট পড়লো বিহারে। 
প্রশ্ন একটাই, পরিবর্তনটা কিসের? রাজনৈতিক নাকি আর্থ- সামাজিক? এমুহূর্তে সেকথা জানার উপায় নেই। আজ প্রথম দফার পর বাকী থাকলো, আরও দু'দফার ভোটপর্ব। বুধবারের ভোটের লড়াই হলো আধুনিক ভোটবাক্স মেশিনেই। দু- চারটে বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া সেই লড়াইয়ের আঁচ জনজীবনে ছড়িয়ে পড়েনি। এপর্যন্ত রাজ্যের কোথাও কোন অশান্তির ঘটনা জানা যায়নি।

এদিকে রাজনৈতিক সম্পর্কে বিরোধী হলেও, তেজস্বী যাদব আর চিরাগ পাসোয়ানের গলায় এক সুর। সুশাসনবাবু নীতিশ কুমারের জমানায় বিহারের সর্বনাশ হয়েছে। ওদিকে নীতিশ কুমারকে নিয়ে আর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন চিরাগ। ভোটের পরেই নীতিশ কুমার কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের মহোজোটে ফিরে যাওয়ার জন্য তল্পিতল্পা গুটিয়েই রেখেছেন।

বুধবারের প্রথম দফায় ভোট হলো বিহারের ১৬ জেলার ৭১ আসনে। ইভিএমে ভাগ্যলিখন বন্দি হলো একহাজার ছেষট্টিজন প্রার্থীর। এঁদের মধ্যে আছেন বিজেপি'র ২৯, জনতা দল ইউনাইটেডের ৩৫ জন ছাড়াও অন্যান্য সহযোগী দলের সাতপ্রার্থী। অন্যদিকে কংগ্রেসের ২০, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের ৪২ জন প্রার্থী। লোক জনশক্তি পার্টির আজকের প্রার্থীসংখ্যা ছিলো ৪১। সকাল সাতটায় শুরু হয়ে ভোট নেওয়া চললো সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত। প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো মোট দু'কোটি চোদ্দ লক্ষ ভোটারের। কিন্তু বেলাশেষে ভোট দিলেন প্রতি একশোজনের মধ্যে প্রায় চুয়ান্নজন(৫৩.৫৪ শতাংশ)। বিহারবাসীর রায়, তারা ভোট দিলেন উন্নয়নের পক্ষে। কিন্তু সেই উন্নয়নের দিশারী কে?




দশ লাখ চাকরির প্রতিশ্রুতি তেজস্বীর। ওদিকে এক নয়া বিহার গড়ার অঙ্গীকার চিরাগের। রামবিলাস পুত্র চিরাগ পাসোয়ানের সাফ কথা- লোক জনশক্তি পার্টির সঙ্গে ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি। তবে তার নিজের দল ক্ষমতায় এলে প্রথমেই যে কাজটা করবে বলে কথা দিয়েছে, তা শুনে চোখ কপালে উঠতে পারে নীতিশ কুমারের। "নীতিশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাবো," বুক বাজিয়ে ঘোষনা প্রয়াত রামবিলাসপুত্রের। "নীতিশের উপযুক্ত জায়গা জেল। দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ নেই, তা অসম্ভব।" প্রসঙ্গত মদের কালোবাজারী নিয়ে বারবার আঙুল উঠেছে নীতিশের দিকে। চিরাগের শ্লোগান- বিহার ফার্স্ট বিহারি ফার্স্ট। তিনি স্বপ্নফিরি করছেন এক আত্মনির্ভর বিহারের।

জেলবন্দি লালুপ্রসাদ যাদবের পুত্র তেজস্বী যাদবের অঙ্গীকার সবার রোজগারের ব্যবস্থা করা। করোনা সংক্রমণের পর বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বিহারের শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফিরে আসা নিয়ে যে দুর্ভোগের ছবিটা ধরা পড়েছিলো, তাকেই হাতিয়ার করেছেন তেজস্বী। বলতে গেলে, এই একদফা ইস্যু নিয়েই ময়দানে নেমে পড়েছে তাঁর রাষ্ট্রীয় জনতা দল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে লালুপুত্র বলেন, "নরেন্দ্র মোদি নিজেই চাকরি দেওয়ার কথা দিয়ে, কথা রাখেননি। এবার তাঁর জোটসঙ্গী নীতিশ কুমার। বিহারের বেরোজগারি নিয়ে কারুর কোনও মাথাব্যথা নেই।"

ওদিকে এক্সিট পোলের ভবিষ্যদ্বাণী, চিরাগের লোকশক্তি পার্টির স্কোর তিন- চারের বেশি এগোতে পারবে না। বিজেপির কটাক্ষ, ভোটকাটার দল। তবে যে যাই বলুক বিজেপি, জেডিইউ- এর এনডিএ জোট, আর কংগ্রেস, আরজেডি'র মহাজোট দুই শিবিরের নিশানাতেই লোক জনশক্তি পার্টি। তবে এতকিছুর পরেও, পদ্ম শিবিরের ওপর নিজের আনুগত্যে এতটুকুও চিড় ধরতে দেননি চিরাগ। তিনি সোজাসুজি জানিয়ে দিয়েছেন, নীতিশ কংগ্রেসের মহাজোটে সামিল হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছেন। লোক জনশক্তির সঙ্গে আঁতাত করেই বিহারের ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি। ওদিকে জনতা দল ইউনাইটেড- এর পাল্টা জবাব, তেজস্বী যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের 'বি টিম' চিরাগ পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি।

তবে গত পনেরো বছরের নীতিশ জমানা মোটেই বিহারবাসীর সমালোচনার উর্ধ্বে না। এমনিতে শান্ত স্বভাবের নীতিশ কুমারকে গত কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল অন্য এক মেজাজে। অনেক জনসভাতেই তিনি তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ ভাষায় সরাসরি আক্রমণ শানাচ্ছিলেন বিরোধী শিবিরের দিকে। বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধীরা অন্যান্য আরও একগুচ্ছ প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছিলেন রাজ্যে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে। অভিযোগ, গোটা রাজ্য জুড়ে রমরমা কারবার চলছিলো মদের কালোবাজারীর। আর তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন নীতিশ কুমারের দশ জনতা দল ইউনাইটেডের অনেক ঘনিষ্ঠরাই। এখন দেখার, নীতিশের ওপর জমা গত পনেরো বছরের ক্ষোভের মুশকিল আসান হতে পারবেন কিনা নরেন্দ্র মোদি? নাকি শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করবেন তেজস্বী যাদব?


মন্তব্যসমূহ