জলপাইগুড়ির জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারে দুর্গাকে ভোগে দেওয়া হয় পুঁটি ,বোয়াল , ইলিশ

 

পুঁটি মাছ, বোয়াল মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মা দুর্গাকে আমিশ ভোগ দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারে



 কুশল দাশগুপ্ত , জলপাইগুড়ি , ১২ অক্টোবরঃ  প্রাচীন রীতি নিতি মেনে আজ জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হল মহাসপ্তমীর পূজা। এবছর ৫১২ বছরে পদার্পণ করলো জলপাইগুড়ি রাজ পরিবারের দুর্গা পূজা। আজ সকাল থেকে রাজ পরিবারের দুর্গা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় মহা সপ্তমীর পূজা। 

পুঁটি মাছ, বোয়াল মাছ, ইলিশ মাছ দিয়ে মা দুর্গাকে আমিশ ভোগ দেওয়া হয় রাজ পরিবারের পক্ষ থেকে।  রাজ পুরোহিত শিবু ঘোষাল বলেন, মঙ্গলবার মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ছটায় বেলতলায় পূজা দিয়ে দেবীস্নান সম্পন্ন হয়েছে। এদিন মা'কে আমিষ ভোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এদিনই সন্ধ্যা আরতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  বুধবার মহাষ্টমীতে অর্ধরাত্রি পূজা হবে। নিয়ম মেনে হবে সন্ধিপূজাও। আগে নরবলির রীতি থাকলেও, পরে তা ছাগ বলিতে পরিণত হয়। বর্তমানে চাল কুমড়া দিয়েই বলি প্রথা সারা হয়। মহাষ্টমীর মধ্যরাত্রির পূজায় রাজ পরিবারের সদস্য এবং রাজ পুরোহিত ছাড়া আর কেউ উপস্থিত থাকতে পারেন ন। মহালয়ার পর থেকেই শুরু হয় জলপাইগুড়ি বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গা পূজা। তবে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি শুরু হয় মনসা পূজার দিন থেকেই। রাজ পরিবারের সদস্যরা তখন থেকেই রাজবাড়িতে রাত্রিযাপন করে পূজার প্রস্তুতি শুরু করেন।

জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গা  প্রতিমায় মায়ের সাবেকি মূর্তির সঙ্গে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। মা এখানে রুদ্র রুপী। প্রতিমার রং তপ্ত কাঞ্চন বর্ণ। এখানে দুর্গার সাথে জয়া ও বিজায়াও পূজিতা হন। মায়ের বাহন হিসেবে সিংহের পাশাপাশি রয়েছে বাঘও।

এবার করোনা বিধির জন্য মন্দির চত্বর বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মন্দিরের বাইরে থেকেই সকলে পুষ্পাঞ্জলি ও পূজা দিতে পারবেন। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দিরের ভেতরে যারা প্রবেশ করবেন তাদের প্রত্যেককেই মাস্ক ও ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট থাকতে হবে বলে জানান রাজপুরোহিত শিবু ঘোষাল।

মন্তব্যসমূহ