রাজবংশী সমাজের নবান্ন উৎসব আজ

 

আজ রাজবংশী সমাজের ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে নবান্ন 



সজল দাশগুপ্ত , কলকাতা, ১৮ নভেম্বরঃ বাঙালি এবং বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব হলো নবান্ন। আর এই নবান্ন কে ঘিরে গ্রামবাংলায় প্রত্যেকটি পরিবার মেতে ওঠে নবান্নের আমেজে। বাংলা এবং বাঙ্গালীর রীতি রেওয়াজে মূলতঃ  গ্রামবাংলায় এই দিনটিকে ঘিরে উৎসবের আবহ বিশেষভাবে চোখে পড়ে। তবে রাজবংশী সমাজে এই নবান্ন উৎসব পালন করেন ভিন্ন রীতিতে। সেই রীতিকে বেষ্টন করে রাজবংশীদের ঘরে ঘরে পালিত হলো নবান্ন উৎসব।

 উল্লেখ্য হেমন্তের শুরুতেই গ্রামের কৃষি জমির ধান কেটে ফেলা হয়। আর সেই ধান ঘরে তোলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যায় চাষীদের মধ্যে। এই সময় কার্তিকের শেষ এবং অঘ্রায়নের শুরুর প্রথম দিন বাংলার গ্রামে গঞ্জের সকলে নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন। নবান্ন অর্থাৎ নতুন অন্ন। রাজবংশী সমাজে প্রচলিত রীতি আছে যে,ঘরে তোলা সেই নতুন অন্ন পূজার্চনার মাধ্যমে দেব দেবী এবং পূর্বপুরুষদের দেওয়া হয়। ফলে নতুন চালের ভাত এবং বিভিন্ন শাকসবজি সাজিয়ে চাষিরা কৃষিজমিতে এবং বাড়ির আনাচে কানাচে অন্যান্য পশু পাখিদের জন্য রেখে দেন।প্রত্যেক রাজবংশী সমাজের বাড়িতে লক্ষ্য করা যায় কলার ম্যান্ডো  সাজিয়ে বাড়ির বউয়েরা ধান গাছ কে বরণ করে উৎসবের সূচনা করেন। এরপরে বিভিন্ন রীতি রেওয়াজ এর মাধ্যমে বিশেষ করে রাজবংশীদের পুজো দেওয়া অধিকারীর  মাধ্যমে বাড়িতে পূজা দেন। সঙ্গে দেওয়া হয় গাছের নতুন কাঁচা সুপারি ও পান । বাড়ির লোকেরা তাদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে নতুন চাল দিয়ে প্রসাদ তৈরি করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন। এমনকি সন্ধ্যায় শেয়াল কুকুরকে দেওয়ার রীতিও চোখে পড়ে রাজবংশী সমাজে। এরপর নতুন চালের ভাত, শাকসবজি দিয়ে রাতে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় । যাকে রাজবংশী ভাষায় বলা হয় মাহাবাড়িকের ঢোনা। এরপর রাতে আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের আমন্ত্রণ জানিয়ে হয় ভুঁড়ি ভোজ। সেখানে বিভিন্ন পদের রান্না করে খাওয়ানো হয় অতিথিদের। বাড়ির এক গৃহিণী সুপর্ণা রায় বলেন, " রীতি মেনে ধানের জমিতে পুজো দিয়ে ধান বাড়ি নিয়ে আসা হলো। আজকেই আমরা ধান এই পুজোর মধ্য দিয়ে ডুলিতে তুলবো। রাতে নতুন অন্ন সহ ভোজ হবে।"

মন্তব্যসমূহ