বেহালার দিন প্রতিদিন রবিবাসরীয় বিশেষ - আজকের সমাজের হিরো ' অশীতিপর সমাজ সেবক দিলীপ ভট্টাচার্য '

বেহালার দিন প্রতিদিনের আজকের হিরো  

আশি পেরলেও মনের জোরে সমাজে যুব পিঁড়িকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে চলেছেন দিলীপ ভট্টাচার্য 



- কুশল দাশগুপ্ত , শিলিগুড়ি 

তিনি এখন একাকী। আর এই একাকী জীবনের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বই। আর একটি বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে না বললে , এই কথকতার সুরুটাই হয় না। তাঁর জীবনের ব্রত এই সমাজে একজনকে হলেও , তিনি নিজের পায়ে দাঁড় করাবেন। আর ইতিমধ্যে সেই ব্রতে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন অশীতিপর মানুষটি। কাউকে করে দিয়েছেন ব্যবসা , তো কারোকে শিক্ষিত করে তুলে সমাজে একটা শক্ত পোক্ত জায়গা করে দিয়েছেন। চলুন একেবারে আড়ালে থেকে মানুষের জন্য কাজ করে চলা এক সমাজ সাধকের কথা বলা যাক। হয়ত ভাবতেই পারেন , এরকম তো অনেকেই করেন। তবে আমাদের বেহালার দিন প্রতিদিনের চোখে আজকের হিরো ' দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য '। 
 দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য,একটি রাষ্ট্রায়ত্য ব্যাংকের প্রাক্তন অবসর প্রাপ্ত অফিসার।বর্তমানে শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ার একটি বাড়িতে একা থাকেন,আশির উপরে বয়স তার চেহারাতে তার ছাপ পড়ে গেছে।তবুও জীবনের কাছে হার মানতে নারাজ তিনি।সব প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তিনি আপনজন বলতে কেউ নেই তার।স্ত্রী পুত্র কেউ নেই আমার,আক্ষেপে জানালেন তিনি।স্ত্রী মারা গেছে অনেকদিন হল আর ছেলে মারা গেছে বছর দুয়েক।তবুও জীবনের কাছে হার মানতে নারাজ তিনি।জানালেন এইভাবেই জীবনকে মেনে নিয়েছি,না মেনে নিলে তো আমারই কষ্ট।নিজে নিজেই সবকিছু করেন।নিজে ওষুধ খান,নিজেই নিজের পরিচর্চা করেন।লড়াই করে চলেছি আমি।একসময় কলকাতার মানুষ দিলীপবাবু এখন পুরোপুরি শিলিগুড়ির বাসিন্দা।সাহিত্যের পোকা দিলীপবাবু সারাদিন বই নিয়েই কাটান বলতে গেলেই বইই তার বন্ধু।বাংলা থেকে ইংরেজী সব বই পড়েন তিনি বাংলা থেকে ইংরেজী রবীন্দ্রনাথ থেকে মধুসুদন,সত্যজিৎ রায় থেকে সৈয়দ মুসতাবা সিরাজ, থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে নবনীতা দেব সেন এছারা ছোটদের উপন্যাস তার একেবারে মুখসত।তিনি জানালেন বই আমার সাথী আমার নিজের জীবনের একমাত্র  সাথী এই বই।ইংরেজী বই প্রায় হাজারের কাছাকাছি পড়ে ফেলেছেন তিনি।রহস্য উপন্যাস তার একেবারেই নাগালের মধ্যে।দিলীপবাবু জানালেন আমি চেষ্টা করি যাতে আমার জীবনের সব আনন্দ উপভোগ করতে।এমনিতে খুব পরোপকারী দিলীপবাবু সবাইকে সাহায্য করে চলেন যেই আসুক নিজে সমস্ত কিছু বিলিয়ে দেন,কোনদিনই পিছুপা হন নি তিনি,সবাইকে নিয়ে চলতে আনন্দ পাওয়া মানুষটা আজ যেন একা একেবারেই একা।তবুও মুষড়ে পড়েন নি দিলীপবাবু চলতে চান নিজের মত করে।ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন দুটোই,অসুবিধা হয়েছে কিনা জিঞ্জাসা করলে তিনি জানান কোন সমস্যা হয় নি,এতেই প্রমানিত হয় শরীর ছাড়া মনের দিক থেকেও শক্ত তিনি।পড়াতে জনপ্রিয় দিলীপবাবুর সুনাম আছে ভদ্রলোক বলে এই তকমা নিয়েই তিনি আগামীদিনে চলতে চান।জানালেন বেচে থাকবো সন্মানের সাথে মাথা নীচু করতে চাই না বাকি দিনগুলিতে।বইপড়া ছাড়া ফুটবলের ভক্ত দিলীপবাবু  এখন আর খেলা দেখেন না,জানালেন আগের মতন আর আগ্রহ পাই না খেলা দেখতে।এখন আমার বন্ধু শুধু বই কেবল বই।কারন বই তৈরী করে বতর্মান,বই তৈরী করে ভবিষ্যত।আর এটাই পরিচয় আশির যুবক দিলীপ সরকারের।
 দিলীপবাবুকে জিঞ্জাসা করা হয়েছিলো তিনি কি করে আনন্দ পান।তিনি জানিয়েছেন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে।প্রথম দিকে চাকরী জীবনে যখন তিনি কলকাতাতে থাকতেন তখন সাতজন কিশোরকে সারাজীবন থাকা খাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিয়েছিলেন যারা এখন সবাই প্রতিষ্ঠিত এবং নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে।বর্তমানে শিলিগুড়ির যে বাড়িতে তিনি থাকেন তার নীচে দুজন বেকার ছেলেদের মমো চাউমিনের দোকান খুলে দিয়েছেন কোন প্রকার শর্ত ছাড়াই।এছারাও তিনি তার বাড়িতে রান্না করতে আসা দুজন মহিলার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সম্পুর্ন দায়িত্ব নিজে তুলে নিয়েছেন।এছারা যেকোন উৎসবে নিজে বাড়ীর নীচে টেবিল চেয়ার পেতে নিজে বসে বহু মানুষকে খাওয়ান।নিজে যেতে না পারলেও তিনমাস পরপর অনাথ আশ্রমে জামাকাপড় দান করেন । এছাড়াও দশজন দুস্থ মানুষের চিকিৎসা তিনি নিজে করাচ্ছেন,এইসব তিনি নিজে দেখতে পারেন না বার্ধক্যের কারণে তাই একজনকে ঠিক করে রেখেছেন এইসব মানুষের কাজ করে দেবার জন্য।
তিনি নিজে জানিয়েছেন এই বয়োসে সব জায়গায় যাওয়া অসম্ভব।তাই সামাজিক কাজ করতে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মন্তব্যসমূহ